আমুসহ আওয়ামী লীগের ৭ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৫-১১-২০২৬ ১২:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৫-১১-২০২৬ ১২:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুসহ দলটির শীর্ষ সারির সাত নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রেজিস্ট্রারের কাছে সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। অভিযোগটি আমলে নিয়ে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযুক্ত সাতজন হলেন—সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, সাত আসামির মধ্যে ছয়জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মির্জা আজম পলাতক।
এর আগে গত ২৬ অক্টোবর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, আমুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা পড়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করা হয়েছে।
ওইদিন চিফ প্রসিকিউটর বলেছিলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তারা যুক্ত ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট বৈঠকেও অংশ নিয়েছিলেন বলে তদন্তে অভিযোগ উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলন দমনকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের নেতারা আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কারফিউ জারি এবং তা ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা এসব নেতা আন্দোলন দমনে পরিকল্পনা, উসকানি, সহযোগিতা ও নির্দেশনার মাধ্যমে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে শেখ হাসিনা ও অভিযুক্তদের কথোপকথনের রেকর্ড এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্তও প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রসিকিউশনের দাবি, আন্দোলন দমনের নামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত কর্মকাণ্ডের অংশ।
ডা. দীপু মনি ও ড. আব্দুর রাজ্জাক ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলারও আসামি।
আজকের শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া এবং আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে পারেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স